শিম খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা
শিম হয় একটি লতানো বর্ষজীবী উদ্ভিদ। শিমের ইংরেজি নাম (Bean), বৈজ্ঞানিক নাম Lablab niger, গোত্র Leguminoseae। শিম একটি শীতকালীন জনপ্রিয় সবজি। এটি বর্তমানে প্রায় সারা বছরেই পাওয়া যায়। বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকাতেই চাষ হয় এই সবজি। শিম যেভাবে রান্না করে খাওয়া যায়, যেমন- তরকারি, ভাজি, ভর্তা ইত্যাদি। এছাড়াও পাকা শিমের দানা ভেজে অথবা ডাল রান্না করে খাওয়া যায়। এটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিগুণেও ভরপুর।
বসন্তকালে শিম (Bean) এর বীজ বপন করা হয়, শীতকালে এর ফুল (flowers) থেকে শিম হয়। শিম ৩.৮ সেন্টিমিটার থেকে ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা (long) বা বাঁকানো হয়। এর বীজের সংখ্যা ৩ থেকে ৫ টি হয়। এর পাতা, মূল, বীজ বিভিন্নরকম ঔষধরুপে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
শিমের কচি (young) বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন ও শ্বেতসার, যা খাদ্য হিসেবে বেশ উপকারি। এছাড়াও এতে পর্যাপ্ত পরিমানে ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, সি, ও বি থাকে। দেহে পুষ্টির চাহিদা পুরণে এসব উপাদানের কার্যকরি ভূমিকা রয়েছে।
শিমের কিছু অসাধারন স্বাস্থ্য উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ নিম্নে আলোচনা করা হল।
শিমের পুষ্টি উপাদান
খাবার উপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম শিমে রয়েছে
* পানি ৮৫ গ্রাম
* খাদ্যশক্তি ৪৮ কিলোক্যালরি
* শর্করা ৬.৭ গ্রাম
* চর্বি ০.৭ গ্রাম
* আমিষ ৩ গ্রাম
* ভিটামিন সি
* ভিটামিন বি-১
* ভিটামিন-২
* খনিজ লবন ০.৪ গ্রাম
* ক্যারোটিন ১৮৭ মাইক্রোগ্রাম
* ক্যালসিয়াম ২১০ মিলিগ্রাম
* লৌহ ১.৭ মিলিগ্রাম
পরিপক্ব শুঁটিতে পানি কম থাকে এবং কিছু উপাদান বেশি থাকে। যেমন- শ্বেতসার ৬০ গ্রাম, আমিষ ২৫ গ্রাম, স্নেহ ০.৮০ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৬০ মিলিগ্রাম, তাপশক্তি ৩৪০ কিলোক্যালরি।
শিমের বিভিন্ন উপকারিতা
>> শিম শরীরের (body) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
>> কালো শিম বীজে (seed) কোলন ক্যান্সার সহায়ক। এটি কোলন অ্যাডেনোমার বিপরীতে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কার্যকরি।
>> শিম বীজে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বি৬ বা ফোলেট রয়েছে। যা স্নায়ুতন্ত্র (nervous system) ভাল রাখতে সাহায্য করে।
>> গর্ভবতি (pregnant) মহিলা ও শিশুদের অপুষ্টি দূর করতে শিম ভাল উপকারি।
>> শিম শরীরের ভেতরের গরম ভাব দূর করে।
>> শিম খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ তাই চুল পড়া কমায় পাশাপাশি চুলের (hair) স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে।
>> শিমে সিলিকন (Silicon) জাতীয় উপাদান রয়েছে। যা হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে।
>> ওজন কমানোর জন্য নিয়মিত শিম খেতে পারেন।
>> শিম ত্বককে করে উজ্জল ও নরম। পাশাপাশি চর্মরোগ দূর করে ত্বক (skin) ভাল রাখে।
>> শিম ডায়রিয়ার প্রকোপ কমায়।
>> শিমে রয়েছে ফলিত (applied) উপাদান, যা মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে।
পড়ুনঃ পুঁই শাকের স্বাস্থ্য উপকারিতা
আরো পড়ুনঃ পটলের স্বাস্থ্য উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ
কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সমাধানে
শিম (Bean) আঁশ জাতীয় একটি সবজি, শরীরে পাকস্থলীর সমস্যা দূর করতে আঁশ জাতীয় খাবারের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। তাই নিয়মিত শিম খেলে শরীরে আঁশযুক্ত খাবারের চাহিদা পূরন হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সমাধানেও এর গরুত্ব অনেক।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
শিম শরীরে পুষ্টি (nutrition) জোগায়। নিয়মিত শিম খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস পায় এবং শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হৃদরোগের ঝুকি কমাতে সাহায্য করে।
প্রোটিনের চাহিদা পুরণে
শিমে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমান ভিটামিন বি ও অ্যামাইনো এসিড। যা শরীরে প্রোটিনের চাহিদা পূরণে কাজ করে। তাই শরীরে প্রোটিনের (protein) চাহিদা পূরণে নিয়মিত শিমের তরকারি খেতে পারেন।
হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে
শিমের বীজে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যন্টি ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান বিদ্যমান। এই উপাদান হৃদরোগ (heart disease) নিয়ন্ত্রণে কার্যকরি ভূমিকা রাখে।
পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা সমাধানে
যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, কোন কিছু খেলেই বমি বমি ভাব হয় এবং অতিরিক্ত গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন, তারা নিয়মিত শিম খেতে পারেন। শিমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যামাইনো এসিড থাকে, যা পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা সমাধানে বেশ কার্যকরি।
সতর্কতা
শিমের অনেক উপকারিতা থাকলেও এটি বেশি (more) পরিমানে খাওয়া উচিত নয়। শিমে রয়েছে অল্প পরিমান ক্ষতিকর সায়ানোজেনিক গ্লুকোসাইড। এই উপাদানের পরিমান শুকনো শিমে বেশি থাকে। শিমের শুকনো বীজ (seed) ডাল বা অন্য ভাবে রান্না করার সময় একবার পানি পরিবর্তন করা উচিত।
বেশি পরিমানে শিম খেলে কিছু কিছু সময় বমি বমি ভাব হতে পারে, মাথা ব্যাথা হতে পারে, শরীরে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে খেতে পারেন।



0 comments:
Post a Comment