Saturday, November 26, 2022

শিম খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা জেনে নিন। Benefits of eating bean

শিম খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা 





শিম হয় একটি লতানো বর্ষজীবী উদ্ভিদ। শিমের ইংরেজি নাম (Bean), বৈজ্ঞানিক নাম Lablab niger, গোত্র Leguminoseae। শিম একটি শীতকালীন জনপ্রিয় সবজি। এটি বর্তমানে প্রায় সারা বছরেই পাওয়া যায়। বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকাতেই চাষ হয় এই সবজি। শিম যেভাবে রান্না করে খাওয়া যায়, যেমন- তরকারি, ভাজি, ভর্তা ইত্যাদি। এছাড়াও পাকা শিমের দানা ভেজে অথবা ডাল রান্না করে খাওয়া যায়। এটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। 


বসন্তকালে শিম (Bean) এর বীজ বপন করা হয়, শীতকালে এর ফুল (flowers) থেকে শিম হয়। শিম ৩.৮ সেন্টিমিটার থেকে ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা (long) বা বাঁকানো হয়। এর বীজের সংখ্যা ৩ থেকে ৫ টি হয়। এর পাতা, মূল, বীজ বিভিন্নরকম ঔষধরুপে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 


শিমের কচি (young) বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন ও শ্বেতসার, যা খাদ্য হিসেবে বেশ উপকারি। এছাড়াও এতে পর্যাপ্ত পরিমানে ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, সি, ও বি থাকে। দেহে পুষ্টির চাহিদা পুরণে এসব উপাদানের কার্যকরি ভূমিকা রয়েছে। 


শিমের কিছু অসাধারন স্বাস্থ্য উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ নিম্নে আলোচনা করা হল। 


শিমের পুষ্টি উপাদান 

খাবার উপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম শিমে রয়েছে 

* পানি ৮৫ গ্রাম 

* খাদ্যশক্তি ৪৮ কিলোক্যালরি 

* শর্করা ৬.৭ গ্রাম

* চর্বি ০.৭ গ্রাম 

* আমিষ ৩ গ্রাম 

* ভিটামিন সি 

* ভিটামিন বি-১ 

* ভিটামিন-২ 

* খনিজ লবন ০.৪ গ্রাম 

* ক্যারোটিন ১৮৭ মাইক্রোগ্রাম

* ক্যালসিয়াম ২১০ মিলিগ্রাম

* লৌহ ১.৭ মিলিগ্রাম 

পরিপক্ব শুঁটিতে পানি কম থাকে এবং কিছু উপাদান বেশি থাকে। যেমন- শ্বেতসার ৬০ গ্রাম, আমিষ ২৫ গ্রাম, স্নেহ ০.৮০ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৬০ মিলিগ্রাম, তাপশক্তি ৩৪০ কিলোক্যালরি। 




শিমের বিভিন্ন উপকারিতা 

>> শিম শরীরের (body) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। 

>> কালো শিম বীজে (seed) কোলন ক্যান্সার সহায়ক। এটি কোলন অ্যাডেনোমার বিপরীতে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কার্যকরি। 

>> শিম বীজে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বি৬ বা ফোলেট রয়েছে। যা স্নায়ুতন্ত্র (nervous system) ভাল রাখতে সাহায্য করে। 

>> গর্ভবতি (pregnant) মহিলা ও শিশুদের অপুষ্টি দূর করতে শিম ভাল উপকারি। 

 >> শিম শরীরের ভেতরের গরম ভাব দূর করে।

>> শিম খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ তাই চুল পড়া কমায় পাশাপাশি চুলের (hair) স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। 

>> শিমে সিলিকন (Silicon) জাতীয় উপাদান রয়েছে। যা হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। 

>> ওজন কমানোর জন্য নিয়মিত শিম খেতে পারেন।

>> শিম ত্বককে করে উজ্জল ও নরম। পাশাপাশি চর্মরোগ দূর করে ত্বক (skin) ভাল রাখে। 

>>  শিম ডায়রিয়ার প্রকোপ কমায়। 

>> শিমে রয়েছে ফলিত (applied) উপাদান, যা মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে। 


পড়ুনঃ পুঁই শাকের স্বাস্থ্য উপকারিতা

আরো পড়ুনঃ পটলের স্বাস্থ্য উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ


কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সমাধানে 

শিম (Bean) আঁশ জাতীয় একটি সবজি, শরীরে পাকস্থলীর সমস্যা দূর করতে আঁশ জাতীয় খাবারের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। তাই নিয়মিত শিম খেলে শরীরে আঁশযুক্ত খাবারের চাহিদা পূরন হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সমাধানেও এর গরুত্ব অনেক। 


ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে

শিম শরীরে পুষ্টি (nutrition) জোগায়। নিয়মিত শিম খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস পায় এবং শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হৃদরোগের ঝুকি কমাতে সাহায্য করে। 


প্রোটিনের চাহিদা পুরণে

শিমে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমান ভিটামিন বি ও অ্যামাইনো এসিড। যা শরীরে প্রোটিনের চাহিদা পূরণে কাজ করে। তাই শরীরে প্রোটিনের (protein) চাহিদা পূরণে নিয়মিত শিমের তরকারি খেতে পারেন। 


হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে

শিমের বীজে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যন্টি ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান বিদ্যমান। এই উপাদান হৃদরোগ (heart disease) নিয়ন্ত্রণে কার্যকরি ভূমিকা রাখে। 


পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা সমাধানে

যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, কোন কিছু খেলেই বমি বমি ভাব হয় এবং অতিরিক্ত গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন, তারা নিয়মিত শিম খেতে পারেন। শিমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যামাইনো এসিড থাকে, যা পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা সমাধানে বেশ কার্যকরি। 



সতর্কতা

শিমের অনেক উপকারিতা থাকলেও এটি বেশি (more) পরিমানে খাওয়া উচিত নয়। শিমে রয়েছে অল্প পরিমান ক্ষতিকর সায়ানোজেনিক গ্লুকোসাইড। এই উপাদানের পরিমান শুকনো শিমে বেশি থাকে। শিমের শুকনো বীজ (seed) ডাল বা অন্য ভাবে রান্না করার সময় একবার পানি পরিবর্তন করা উচিত। 

বেশি পরিমানে শিম খেলে কিছু কিছু সময় বমি বমি ভাব হতে পারে, মাথা ব্যাথা হতে পারে, শরীরে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে খেতে পারেন। 


Tuesday, November 22, 2022

লাউ শাক খাওয়ার বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা। Benefits of Gourd Leaves

লাউ শাক খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা 




লাউ পাতা (Gourd leaves) এক ধরনের শাক। এটি অনেক সুস্বাদু ও জনপ্রিয় শাক হিসেবে পরিচিত। এটি ঘরের চালে, উঠানে বা খেতে খামারে যেকোন জায়গাতেই জম্মাতে দেখা যায়। শীতকালীন শাক হলেও বর্তমানে এটি সারা বছরেই পাওয়া যায়। তবে শীতের মৌসুমে এর ফলন (yield) বেশ ভাল হয়। 

সহজলভ্য এই শাকটি বিভিন্নভাবে খেতে পারেন, যেমন- ঝোল, ভর্তা, ভাজি ইত্যাদি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (power) বৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য (good health) বজায় রাখার জন্য প্রতিদিন (everyday) শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। 

লাউ শাকে (gourd spinach) রয়েছে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফলিক এসিড এবং আয়রন। এছাড়াও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ। 

লাউ শাকের বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল। 





স্বাস্থ্য উপকারিতা 

★ লাউ শাক একটি উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি (Vitamin C)  সমৃদ্ধ খাদ্য। ভিটামিন সি শরীরের বিভিন্ন উপকারে আসে। ভিটামিন সি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, প্রচন্ড ঠান্ডা (cold) থেকে রক্ষা করে এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ (infection) প্রতিরোধে সাহায্য করে। ভিটামিন সি এর অভাব পূরণে লাউ শাকের গুরুত্ব অপরিসীম। (Vitamin)


★ লাউ শাক কলেস্ট্ররল ও ফ্যাট মুক্ত হয়। এতে ক্যালরি (calories) কম থাকে। তাই নিয়মিত লাউ শাক খেলে দ্রূত ওজন কমে যায়। 


★ গর্ভবতি মহিলাদেরকে গর্ভাবস্তায় নিয়মিত লাউ শাক খাওয়ানো প্রয়োজন, গর্ভস্থ শিশুর (baby) স্পাইনাল কর্ড এবং মস্তিষ্কের বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাদ্য দরকার। লাউ শাক একটি ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাদ্য। ফলিক এসিডের অভাবে গর্ভস্থ শিশুর স্পাইনাল কার্ডের বৃদ্ধি ব্যহত হয়, এর ফলে প্যারালাইসিস (Paralysis), মস্তিষ্ক (brain) বিকৃতি ও মৃত শিশু জম্মাতে সম্ভাবনা থাকে। 


পড়ুনঃ শিম খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা জেনে নিন

আরো পড়ুনঃ পটলের স্বাস্থ্য উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ 


★ লাউ শাকে আয়রন থাকার কারণে রক্তে হিমোগ্লোবিনের (Hemoglobin) পরিমাণ ও লোহিত রক্ত কনিকার সংখ্যা বৃদ্ধি করে রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। 


★ লাউ শাক একটি বিটা-ক্যারোটিন, লুটেইন এবং জিয়েজ্যান্থিনে পরিপূর্ণ খাদ্য। বিটা-ক্যারোটিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং লুটেইন জিয়েজ্যান্থিন চোখের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে। 


★ লাউ শাকে রয়েছে উচ্চমাত্রায় ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম, যা হাড় শক্ত ও মজবুত করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। অস্টিওপোরেসিস (Osteoporosis) এবং অন্যান্য ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। 


★ লাউ শাক (gourd spinach) একটি পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য। লাউশাকে যে পরিমাণ পটাশিয়াম থাকে তা কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যা শরীরে তরলের মাত্রা ঠিক রাখে এবং হৃদস্পন্দন (heartbeat)রক্তচাপ (blood pressure) স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। 


★ লাউ শাকে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে এবং পাইলস (Piles) রোগ প্রতিরোধে বেশ কার্যকরী। এছাড়াও লাউ শাক মস্তিষ্ককে ঠান্ডা রাখে এবং ঘুমের সমস্যা সমাধানে কাজ করে।

Friday, November 4, 2022

আমলকী খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা। Benefits of eating amalaki

আমলকী খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা 





আমলকী স্বাস্ব্যের জন্য খুবই উপকারি একটি ফল।  আমলকীর ইংরেজি নাম (amla) বা Indian gooseberry এবং বৈজ্ঞানিক নাম (Phyllanthus emblica)। সংস্কৃত ভাষায় এর নাম আমলক। এটি এক ধরনের ভেষজ ফল। দেশি ফল হিসেবে আমলকী সবার কাছে পরিচিত। আমলকী টক ও কষযুক্ত একটি ছোট ফল। ছোট হলেও এর গুণের শেষ নেই। 

আমলকী (Amalaki) (amla) এমন একটি ফল (fruit) যা সব রোগ তাড়াতে না পারলেও, সব রোগ প্রতিরোধ করতে পারে। আমলকীর পাতা, ফুল, ফল, বীজ, ছাল এবং শিকড় সবগুলোই ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আমলকীকে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে অমৃত ফল বলা হয়। আমলকী আয়ুর্বেদ ও ইউনানি ঔষধ তৈরিতে খুবই ব্যবহার করা হয়। প্রায় ১০০ প্রকার আয়ুর্বেদ ও ৫০ প্রকার ইউনানি ঔষধ তৈরিতে আমলকী ব্যবহার হয়। আমলকীতে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সমাধান রয়েছে। 


আমলকীর পরিচিতি 

: আমলকী গাছে ৮-১৮ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট হতে পারে। 

: এর ফল, হালকা সবুজ বা হলুদ রঙের ও গোলাকার। শরৎকালে ফল পাওয়া যায়। 

: এর পাতা, ঝরা প্রকৃতির, হালকা সবুজ রঙের, পাতা যৌগিক প্রকৃতির এবং আকারে ছোট, ১/২ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। 

: এর কাঠ, অণুজ্জল লাল বা বাদামি লাল বর্ণের হয়। 

: এর বংশবিস্তার, বীজের মাধ্যমে হয়। 


আমলকীর ব্যবহার 

আমলকীর (Amalaki) ভেষজগুণ রয়েছে প্রচুর। এর পাতা ও ফল দুটিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা হয়। আমলকী খেরে মুখের রুচি বাড়ে। স্কার্ভি বা দন্তরোগ সারাতে টাটকা আমলকী ফল অতুলনীয়। এচাড়াও পেটের পীড়া, সর্দি, কাশি ও রক্তশুন্যতা জন্যও বেশ উপকারি। 

এটি অনেক উপায়ে ব্যবহার (use) করা হয়। যেমন- আমলকীর রস,  আমলকীর গুঁড়া, আমলকীর আচার ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞরা বলেন আমলকী খাওয়ার সবথেকে উপযোগী সময় হলো শীতকাল।

তিনটি শুকনো ফল রাতে একত্রে ভিজিয়ে রেখে সকাল বেলা ছেঁকে খালি পেটে শরবত হিসেবে খেলে পেটের অসুক ভাল হয়। আমলকীর রস (juice) খালি পেটে খেতে পাড়ের, তবে রসের পরিমান ১০ মিলিগ্রামের বেশি খাওয়া উচিত নয়। বিভিন্ন ধরণের তেল তৈরিতে আমলকী ব্যবহার হয়। কাঁচা অথবা মুকনো আমলকী বেটে একটু মাখন মিশিয়ে মাথায় (head)  লাগালে খুব দ্রূত ঘুম আসে। কাঁচা আমলকীর রস প্রতিদিন চুলে লাগিযে ২-৩ ঘন্টা রাখতে হবে, এভাবে এক মাস মাখলে চুল উঠা, চুলের গোড়া শক্ত, তাড়াতাড়ি চুল (hair) পাকা কমে যাবে। 



আমলকীর বিস্তার 

বাংলাদেশ (Bangladesh), ভারত, চীন, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া,  হংকং, মালয়েশিয়া, লাওস, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আমেরিকায়। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই এই গাছ দেখা যায়। 


পড়ুনঃ পুঁই শাকের স্বাস্থ্য উপকারিতা 

আরো পড়ুনঃ কলমি শাকের স্বাস্থ্য উপকারিতা

ওষুধি গুণ 

: আমলকী চুল ওঠা বন্ধ করতে বেশ উপকারী। 

: চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে। 

: আমলকী খাওয়ার রুচি বাড়ায় 

চোখ উঠলে কাঁচা আমলকীর রস ২ ফোটা করে দিনে দুই বার দিলে বেশ আরাম পাওয়া যায়। 

: এটি বহুমূত্র রোগে উপকারি

: বমি বন্ধে কাজ করে

: দীর্ঘমেয়াদি কাশি সর্দি হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমলকীর নির্যাস উপকারি। 

: এটি হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধক 

: আমলকী কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের উপর কাজ করে

: কোষ্ঠকাঠিন্য, বমিভাব, রক্তশুন্যতা, মাথাব্যথা দূর করতে সাহায্য করে।


একটু কষ কষ ও তেঁতো স্বাদের এই ফলটিতে, ভিটামিন সি  রয়েছে 

: পেয়ারার চেয়ে ৩ গুণ বেশি 

: কাগজি লেবুর চেয়ে ১০ গুণ বেশি 

: কমলার চেয়ে ১৫-২০ গুণ বেশি 

: আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি 

: কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি 

: আমের চেয়ে ২৪ গুণ বেশি 


পুষ্টিগুণ 

আমলকীতে (Amalaki) রয়েছে এলাজিটানিন, এমব্লিকানিন এ,  এমব্লিকানিন বি, কেমফেরল, পানিক্যাফোলিন, পলিফেলন, ফ্ল্যাভোনয়েড, এলাজিক এসিড, গ্যালিক এসিড এবং প্রচুর ভিটামিন সি। 

প্রতি ১০০ গ্রাম আমলকিতে রয়েছে

ভিটামিন সি- ৬০০ মিলিগ্রাম 

ক্যালসিয়াম- ৫০ মিলিগ্রাম 

ফসফরাস- ২০ মিলিগ্রাম 

লৌহ- ১.২ মিলিগ্রাম 

রিবোফ্লাভিন- ০.০১ মিলিগ্রাম 

থায়ামিন- ০.০৩ মিলিগ্রাম 

ক্যালরি- ৪৪ 

কার্বোহাইড্রেট- ১০.২ গ্রাম

ফ্যাট- ০.৬ গ্রাম 

ফাইবার- ৪.৩ গ্রাম 

ক্যারোটিন- ৯ মাইক্রোগ্রাম 

ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড- ৪৬ মিলিগ্রাম 

ওমেগা ৬ ফ্যাটি এসিড- ২৭১ মিলিগ্রাম 



আমলকীর বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিকা 

আমলকী এমন একটি ফল, যার রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য (health) উপকারিতা। এটি অনেক উপায়ে ব্যবহার করা হয়। যেমন- আমলকীর রস, গুঁড়া, আচার ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞদের মতে আমলকী খাওয়ার সবথেকে উপযোগী সময় হচ্ছে শীতকাল। চলুন জেনে নিই আমলকীর কিছু বিশেষ উপকারিতা। 

: আমলকীর আচার খাবারের সঙ্গে খেলে হজমে সাহায্য করে। আধা চূর্ণ শুকনো ফল এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে খেলে হজমের সমস্যা দূর হয়। 

: আমলকীর গুঁড়ো (Amalaki powder) এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু'বার খেতে পারেন। এতে এসিডেটের সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করে। 

: আমলকীর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খেতে পারেন। এতে ত্বকের কালো দাগ দূর হবে ও ত্বকের উজ্জলতা বাড়বে।।

: আমলকী রোগ প্রতিরোধ বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়। 

: আমলকীর রস প্রতিদিন নিয়মিত খেলে দাঁত শক্ত থাকে এবং নিঃশ্বাসের দূর্গন্ধ দূর হয়। 


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

আমলকীতে রয়েছে অসাধারন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির উপাদান। এটি ভিটামিন সি তে সমৃদ্ধ। যা শরীরের বিভিন্ন কার্যকারিতাকে সঠিক ভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে। যার ফরে শরীরে কোনরকম রোগ হওয়া সম্ভবনা কমে যায়। (vitamins) 


চুল (Hair) পড়া নিয়ন্ত্রণে আমলকী 

আমলকী (Amalaki) চুল উঠা বন্ধ করতে বেশ উপকারী। কিছুটা আমলকী পানিতে সিদ্ধ করুন, এরপর পুরোপুরি সিদ্ধ হয়ে গেলে এগুলি ম্যাশ করুন এবং একটি পাত্রে পেস্ট তৈরি করুন। এটি মাথার ত্বকের পাশাপাশি চুলেও পেস্ট হিসেবে প্রয়োগ করা যায়। প্রতি সপ্তাহে একবার ব্যবহার করতে পারেন। এতে চুল পড়া নিয়ন্ত্রণে আসে। আমলকীর রস চুলে ব্যবহার করুন এবং আধা ঘন্টা পরে ধুয়ে ফেলুন। আমলকী তেল প্রাকৃতিক ভাবে চুলকে চকচকে ও উজ্জ্বল করে তোলে। 

এছাড়াও চুলকে খুসকি মুক্ত ও অল্প বয়সে চুল পাকা রোধে কাজ করে। নারকেল তেল (oil), মেথি গুঁড়া ও আমলকী গুঁড়া একসাথে মাশিয়ে পেস্ট করে নিন। এইভাবে সাপ্তাহে ২ দিন চুলের গোড়ায় দিন উপকার পাবেন। 

ক্যান্সার (cancer) নিয়ন্ত্রণে

আমলকীতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ক্যান্সারপ্রতিরোধী গুণ। গবেষণায় বলা যায় এটি ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। আমলকীর জুস প্রতিদিন সকালে খেলে আলসার প্রতিরোধে কাজ করে। এটি শরীরের বিষাক্ত (poisonous)  পদার্থ বের করার পাশাপাশি ওজন কমাতে সাহায্য করে। 


ডায়াবেটিস (Diabetes) নিয়ন্ত্রণ

আমলকী রক্তে শর্করা ও লিপিডের মাত্রা কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য কর। বৈজ্ঞানিক (scientific) ভাবে প্রমাণিত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী, তারা যদি প্রতিদিন নিয়ম  আমলকী খান, তাদের অন্যদের তুলনায় খুব দ্রূত কমে যাবে। এমনকি ডাযাবেটিসের কারনে লিভারের কার্যকারিতায় যেসব সমস্যা দেখা যায়, সেটিও আমলকীর মাধ্যমে নির্মূল করা যায় বরে যানা যায়। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের আমলকী খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভাল। 


হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

বেশি কোলেস্টেরলের মাত্রা হৃদরোগের ঝুঁকিকে বৃদ্ধি করে দেয়। আমলকী কেলে খারাপ কোলেস্টেরল দূর করে ধমনীর ব্লক খুলে দিতে সাহায্য করে। নিয়মিত আমলকী খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। 


হজম শক্তি

ওজন কমাতে আমলকীর সাহায্য নিতে পারেন। এটি শরীরে প্রোটিনের স্তর বৃদ্ধি করে। যা দেহের চর্বি কমায় এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ওজন কমাতে পারে। 


রক্ত (Blood) পরিস্কার 

আমলকীতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীর থেকে টক্সিন উপাদান সব বেড় করে দেয়। আমলকী রক্তে হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin) বৃদ্ধি করে। 


হাড় (Bone) মজবুত

আমলকীতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমান ক্যালসিযাম। যা হাড় মজবুতে বেশ কার্যকরি ভূমিকা রাখে। 


কোষ্ঠকাঠিন্য 

আমলকীতে সলিউবল ফাইবার থাকে। এটি শরীর থেকে টক্সিন উপাদান বেড় করে সেই সাথে হজমে সাহায্য কর। এর রস কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। আবার পাইলস রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 


গর্ভাবস্তায় (Pregnancy)

আমকীতে থাকে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান, যা গর্ভাবস্তায় হাত-পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া সমস্যা সহজেই দূর করে। এছাড়াও আমলকীতে প্রচুর পরিমানে জলীয় উপাদান থাকায় দেহকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য (help) করে থাকে। তবে গর্ভাবস্তায়  চিকিৎসকের পরামর্শে আমলকী খাওয়া উচিত। 


দৃষ্টিশক্তি 

আমলকীতে থাকা ভিটামিন সি, ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে চোখের বিভিন্ন সমস্যা বা অন্যান্য সংক্রমণ রোধ করতে পারে। এছাড়াও আমলকী দৃষ্টি শক্তি প্রখর করতে সাহায্য করে। চোখের পেশীগুলোকে মজবুত (strong) করে ও চোখকে আরাম প্রদান করে। যার ফলে চোখের ক্লান্তি দূর হয়। চোখের ছানি পড়া আটকাতেও সাহায্য করে। 


আমলকী ওজন কমায়

বিভিন্ন ভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে ভিটামিন সি এবং  অন্টিঅক্সিডেন্ট দুটোই যখোন একসাথে মিশে যায়, তখন ওজন কমানোর চেষ্টা কখনোই বৃথা যায না। শরীরের ফ্যাট, কোলেস্টেরল মাত্রা ও অতিরিক্ত খাদ্য (food) গ্রহণ কমানোর জন্য অন্টিঅক্সিডেন্ট খুবই প্রয়োজনীয়। আমলকীতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি এবং  অন্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় জন্য অধিকাংশ শারীরিক ক্রিয়াকলাপ ঠিক মত হয়। যা ওজন কমাতে কার্যকরি ভূমিকা রাখে। 


সতর্কতা 

গবেষণায় (Research) কোন নেতিবাচক প্রভাব নেই, তারপরেও আমলকী ব্যবহার সম্পর্কিত কিছু হালকা, প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া রয়েছে। 

হাইপারগ্লাইসেমিক মানুষের জন্য পরামর্শ হল যে বীজযুক্ত ফল ব্যবহার এড়াতে, কারন এতে তাদের স্বাস্থ্য অবস্থা খারাপ হতে পারে। 

হাইপার অ্যাসিডিটি ট্রিগার করতে পারে, হাইপার অ্যাসিডিটি বা ভিটামিন সি খাবারের সংবেদনশীলতা সম্পর্কে আগে কোন অসুবিধা থেকে থাকে, তবে এই ফলটি খাওয়া উচিত হবে না। 

আমলকী খাওয়ার ফলে কিছু মানুষের শরীরে অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যেমন- পেট ব্যথা, ডাযরিযা, বমিভাব, লবনতা এবং মুখের চারপাশে ফুসকুড়ি, ত্বকের চামড়া এবং মুখ, শ্বাস-প্রশ্বাস, মাথা ঘোরা, মাথা ব্যথা হালকা কিছু সমস্যা হতে পারে। (Amalaki side effects)

Friday, October 28, 2022

আমড়া খাওয়ার উপকারিতা ও গুণাগুণ। Hog plum benefits

আমড়া খাওয়ার উপকারিতা ও গুণাগুণ 




আমড়া একটি জনপ্রিয় ফল। বাজারে সহজলভ্য ফলগুলোর মধ্যে আমড়া অন্যতম। আমড়ার (ইংরেজি Hog plum)। বৈজ্ঞানিক নাম Spondias pinnaata Kurz. (বা Spondias mombin), পরিবারঃ (Anacardiaceae)। একে গোল্ডেন অ্যাপেলও বলা হয়। এটি ল্যাটিন আমেরিকার স্থানীয় ফল হলেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে বেশি খাওয়া হয়। (Hog plum scientific name) 


আমড়া আমাদের দেশে একটি জনপ্রিয় দেশীয় ফল (Fruit)। টকমিষ্টি স্বাদের এ ফলটি কাঁচা ছাড়াও আচার, চাটনি, জেলি ও রান্নাসহ বিভিন্ন উপায়ে এটি খাওয়া যায়। এটি আকারে ছোট হলেও নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর। আগষ্ট (August) থেকে অক্টোবর (October) পর্যন্ত আমড়ার মৌসুম। 


আমাদের দেশে পুষ্টিকর এই ফলটির দুটি প্রজাতির চাষ হয়, দেশি আমড়া ও বিলাতি আমড়া। মুখে রুচি বৃদ্ধি সহ অসংখ্য গুণাগুণ রয়েছে এই দুই প্রজাতির আমড়াতে। সবুজ রঙের এই ফলটির অনেক উপকারি দিক রয়েছে। স্বাস্থ্য (Health) রক্ষার্থে আমড়ার উপকারিতা জেনে নিন। 


উপাদান 

আমড়া একটি কষ ও অম্ল স্বাদযুক্ত ফল। এতে রয়েছে প্রায় ৯০% পানি, ৪-৫% কার্বহাইড্রেড এবং সামান্য প্রোটিন। ভিটামিন সি, ক্যারোটিন, সামান্য ভিটামিন বি, ক্যালসিয়াম,  আয়রনও রয়েছে। এতে যথেষ্ট পরিমাণ পেকটিনজাতীয় ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টজাতীয় উপাদান থাকে। 


পুষ্টিগুণ

প্রতি ১০০ গ্রাম আমড়ায় রয়েছে 

খাদ্যশক্তি ৬৬ কিলোক্যালরি, শর্করা ১৫ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, আমিষ ১.১ গ্রাম, ভিটামিন সি ৯২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি ১০.২৮ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫৫ মিলিগ্রাম, আয়রন ৩.৯ মিলিগ্রাম, কেরোটিন ৮০০ মাইক্রোগ্রাম, অন্যান্য খনিজ পদার্থ  ০.৬ মিলিগ্রাম। (Hog plum nutrition) 


ভিটামিন সি এর ভাল উৎস 

আমড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। এটি ভিটামিন সি-এর এক বড় উৎস। এটি শরীরে রক্ত (Blood) জমাট বাধঁতে সাহায্য করে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ দেহকে নানা ঘাত-প্রতিঘাত থেকে রক্ষা করে। এটি দাঁতের মাড়ি শক্ত করা ছাড়াও দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত ও পুঁজ ইত্যাদি বের হওয়া প্রতিরোধ করে। এছাড়াও আমড়াতে থাকা ভিটামিন সি দেহের প্রোটিন কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে। 


হজমশক্তি বৃদ্ধি 

আমড়ায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ রয়েছে, যা হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে বেশ উপকারি। এছাড়াও হজম সমস্যার কারণে যে সমস্যাগুলো দেখা দেয়, যেমন- গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি সমস্যা (Problem) দূর করতেও অনেক উপকারি। 


হাড় মজবুত

আমড়াতে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এটি নিয়মিত খেলে শরীরে প্রতিদিনের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে পারে। ফলে হাড় (Bone) শক্তিশালী করা ছাড়াও হাড়ের যে কোন রোগ দূর করতেও সাহায্য করে। 


সর্দি-কাশি 

আমড়া Hog plum বিভিন্ন ভাইরাসের আক্রমন থেকে রক্ষা করা ছাড়াও সর্দি-কাশি, জ্বর ও ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগ প্রতিরোধে কাজ করে। যার ফলে বিভিন্ন সংক্রমণ (Infection) থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া যায়। সর্দি-কাশি, জ্বর, ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগ উপশমে আমড়া খুবই উপকারি। 


হিমোগ্লোবিনের উৎপাদন বৃদ্ধি

আমড়াতে পর্যাপ্ত পরিমানে আয়রন থাকায় এটি শরীরে হিমোগ্লোবিন ও মায়োগ্লোবিন উৎপাদনে সাহায্য করে। এর ফলে শরীরে অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা (Power) বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও আমড়া শরীরের রক্তসল্পতা ও রক্তের অন্যান্য সমস্যা প্রতিরোধেও কাজ করে। 


মূত্রবর্ধক 

আমড়ার রসে (Juice) বিভিন্ন ঔষধি গুণাগুণ পাওয়া যায়। এটি মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে পর্যাপ্ত প্রস্রাবের মাধ্যমে মানুষের শরীর থেকে তরল বের করে দিতে সহায়তা করে। ফলে শরীর থেকে সোডিয়াম কমে গিয়ে উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়াও এটি সর্দি-কাশি ও জ্বরের সমস্যা দূর করতে কার্যকরি ভূমিকা রাখে। 


ত্বকের উজ্জ্বলতা 

আমড়া ফলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। এই ভিটামিন সি ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল করে। ত্বক (Skin) থেকে ব্রণ দূর করতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে আমড়া খুবই কার্যকরি ভূমিকা রাখে। 


রুচি বৃদ্ধি করে 

যেকোন অসুস্থতায় খাবারের রুচি (Taste) অনেকটাই কমে যায়। তাই আমড়া খেলে মুখের অরুচিভাব দূর হয়। মুখের রুচি ফিরে আসায় ক্ষুদা বৃদ্ধি পায়। 

কাঁকরোল এর গুণাগুণ ও উপকারিতা। Spiny gourd benefits

কাঁকরোল এর গুণাগুণ ও উপকারিতা




কাঁকরোল (Spiny gourd) অতি পরিচিত একটি সবজি। এটি অন্য সবজির থেকে অনেকটা আলাদা এবং সুন্দর। কাঁকরোলের তরকারি, ভাজা কিংবা ভর্তা সবকিছুই খেতে বেশ দারুন। গ্রীষ্মকালে শরীর ঠান্ডা রাখতে প্রতিদিন কাঁকরোল খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। কারন কাঁকরোলে টমেটোর (Tomato) চেয়ে ৭০ গুন বেশি লাইকোপিন, গাজরের (Carrot) চেয়ে ২০ গুন বেশি বিটা ক্যারোটিন এবং লেবুর (Lemon) চেয়ে ৪০ গুন বেশি ভিটামিন সি থাকে। (Spiny gourd recipe) 

ছোট ছোট নরম কাটা দিয়ে প্রকৃতি সুন্দর করে সাজিয়ে তুলেছে এই সবজিটিকে (Vegetable)। মৌসুমের সবজিগুলোর মধ্যে কাঁকরোল অন্যতম। এটি কুমড়া গোত্রীয় সবজি। বাংলাদেশে প্রায় সর্বত্রই এই সবজির চাষ হয়ে থাকে। কাঁকরল দেখতে ছোট সবুজ রঙের কাঁঠালের মত। 


পুষ্টি (Nutrition) উপাদান

প্রোটিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, খনিজ পদার্থ, শর্করা, চর্বি,  আয়রন, ক্যারোটিন, ফাইবার, মিনারেল, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন এ। 


ডায়াবেটিস (Diabetics) নিয়ন্ত্রণে 

কাঁকরোলের হাইপোগ্লাইসেমিক গুণাগুণ রয়েছে। এটি কম ক্যালরি ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, তাই এটি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এটি অগ্নাশয়ের বিটাসেলকে শুরক্ষিত রাখে এবং পূর্ণগঠনে সাহায্য করে। 

এছাড়াও এটি ইন্সুলিন নিঃসরণ এবং সংবেদনশীলতা বাড়ায়, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। আরো জেনে নিন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাঁকরোলের ভাজি, কচি কাঁকরোলের জুস করে নিয়মিত খেতে পারেন। 


ক্যান্সার (Cancer) প্রতিরোধ 

তাজা কাঁকরোলে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাক, যা প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি দেহের ফ্রি র‍্যাডিকেলের  সংখ্যা কমাতে সাহায্য করে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধেও সাহায্য করে। দেহে ফ্রি র‍্যাডিকেল সংখ্যা বেড়ে যাওয়া ক্যান্সারের প্রধান কারন। কাঁকরোলে নির্দিষ্ট একটি প্রোটিন (Protein)  থাকে, যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে প্রতিহত করে। 


দৃষ্টিশক্তির উন্নতি 

সবুজ এই কাঁকরোলে রয়েছে চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি ভিটামিন, বিটাক্যারোটিন এবং অন্যান্য উপাদান, যা দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে অত্যন্ত কার্যকরী। দৃষ্টিশক্তির উন্নতির পাশাপাশি চোখের ছানি পড়া আটকাতেও বেশ উপকারি। 


তারুণ্য (Youthfulness) ধরে রাখে কাঁকরোল 

কোষের কাজকে উদ্দীপিত করে এবং স্ট্রেস কমানোর মাধ্যমে ত্বকের বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সাহায্য করে। কারন এতে থাকে বিভিন্ন ধরনের ফ্লাভনয়েড। যেমন- বিটা ক্যারোটিন, লুটেইন, আলফা ক্যারোটিন, জিয়াজেন্থিন ওকোলাজেন থাকে যা অ্যান্টি অ্যাজিং উপাদান হিসেবে কাজ করে, ত্বকে বয়সের ছাপ পরতেও বাধা দেয়। কাঁকরোলের জুস (Juice) বয়সের ছাপ দূর করতে বেশ কার্যকরি। 


পড়ুন- মূলা শাকের স্বাস্থ্য উপকারিতা 

আরো পড়ুন- ঢেুড়স এর উপকারিতা 


গর্ভাবস্তায় (Pregnancy) 

গর্ভাবস্তায় মহিলাদেরকে তাদের স্বাস্থ্যের বিষেশ যত্ন নিতে হয়। কাঁকরোল গর্ভবতি মহিলাদের পক্ষে ভাল বলে বিবেচিত হয়। গর্ভাবস্তায় অনেক মাযের স্নায়ুবিক ত্রুটি দেখা দেয়। এ সময় কোষের গঠন ও নতুন কোষ তৈরিতে কাঁকরোল সাহায্য করে। এর ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি স্নায়ুবিক ত্রুটি হতে বাধা দেয় 


কিডনির পাথর নির্মূল

কাঁকরোল কিডনির পাথর নির্মূলেও খুবই উপকারি একটি সবজি। ১ গ্লাস পানি অথবা ১ গ্লাস দুধে ১০ গ্রাম কাঁকরোল বাটা মিশিয়ে নিয়মিত খেলে কিডনি ও ব্লাডারের পাথর দূর হয়ে যায়। (Spiny gourd of kidney patients) 


শ্বাসকষ্ট 

শ্বাসকষ্ট হলে ২৫০-৫০০ মিলিগ্রাম কাঁকরোলের শেকড় বাটার সঙ্গে এক চা চামচ আদার রস ও এক টেবিল চামচ মধু (Honey) মিশিয়ে খান, এতে অনেক আরাম পাবেন। 


মেদ কমায়

কাঁকরোলে কমলার চেয়ে ৪০ ভাগ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমাতে সাহায্য করে। আর রক্তে ভিটামিন সি এর পরিমান অল্প থাকলে ফ্যাট বার্নিং কম হয়। ফলে ওজন কমে না। যাদের শরীরে প্রয়োজন মত ভিটামবন সি আছে, তাদের ফ্যাট বার্নিং হয় শতকরা ২৫ ভাগ। ফলে তাদের মোটা হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে যায়। 


হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে

হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাকে কমিয়ে দিতে পারে কাঁকরোল। গবেষনায় জানা গেছে, যাদের শরীরে লাইকোপিনের মাত্রা বেশি তাদের থেকে যাদের শরীরে এর মাত্রা কম থাকে, তাদের ৫০ শতাংশ বেশি হার্ট অ্যাটাকের মম্ভাবনা থাকে। খুব সহজেই এই সমস্যা দূর করতে পারে কাঁকরোল (Spiny gourd)। এটি শরীরের লাইকোপিনের মাত্রা ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 


কোলেস্টেরল (Cholesterol)

যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি তারা নিশ্চিন্তে কাঁকরোল খেতে পারেন। এটি উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। 


কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ প্রতিরোধ 

কাঁকরোলে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, তাই এটি কার্ডিওভাস্কুলার রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। সক্রিয় জীবন যাপনের পাশাপাশি কাঁকরোল খাওয়া হৃদস্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারি। 


ফ্যাটি লিভার রোগ নিয়ন্ত্রণে

বর্তমানে অনেকেই ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কাঁকরোলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভনয়েড থাকে। যা দেহের ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ফ্রি র‍্যাডিকেল দূর করতে সাহায্য করে। 

এছাড়াও এর রয়েছে অ্যান্টিলিপিড প্যারোক্সিডেটিভ গুণাগুণ। যার কারণে ফ্যাটের অক্সিডেশন প্রতিরোধ হয়। নিয়মিত কাঁকরোল খেলে ফ্যাট লিভার (Lever) রোগের ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া সম্ভব। 


সতর্কতা 

কাুঁকরোল (Spiny gourd) সকল শাক-সবজির থেকে আলাদা, এটি সঠিক ভাবে খেলে স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি। আর নিয়ম ছাড়া বার বার- প্রতিদিন খেলে কিছু কিছু অসুবিধাও দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

যেমন- গর্ভবতী এবং স্থন্যদানকারী মহিলাদের কাঁকরোল খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। 

কাঁকরোল রক্তে (Blood) শর্করার মাত্রা বেশি কমিয়ে দেয়। যারা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত তারা অল্প করে খাবেন অতিরিক্ত নয়। প্রয়োজনে নিকটতম চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে পারেন। 

অতারিক্ত পরিমাণে কাঁকরোল খাওয়ার ফলে পেটে ব্যাথা, খাবার হজম না হওয়া, ডায়রিয়া ইত্যাদি সমস্যার সম্ভবনা থাকে।

Tuesday, October 25, 2022

বরবটি এর উপকারিতা। Kidney beans benefits

বরবটি এর উপকারিতা 





বরবটি বিভিন্ন সবজির মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। সবজি হিসেবে অনেক পরিচিত রয়েছে বরবটির। এটি আমিষ ও ফাইবার সমৃদ্ধ একটি সবজি। প্রায় সারা বছরেই এটি ফলানো যায়। তবে গীষ্মকালে ভাল হয়। এই সুস্বাদু সবজি ভর্তা, ভাজি, ঝোল, লুডলস- পাস্তার সঙ্গে নানাভাবে খাওয়া যায়। এটি রান্না করার পাশাপাশি কাঁচাও খাওয়া যায়। এটি ভাজা-সেদ্ধ-তরকারি সবকিছুতেই সমান উপযোগী। 


বরবটির জাতঃ 

কেগরনাটকী দীর্ঘদিন পর্যন্ত বরবটি একটি উন্নত জাত হিসেবে চাষ হয়ে আসছে। এখন বেশ কয়েকটি জাত চলে এসেছে। ঘৃতসুন্দরী, বনলতা, লাল বাণী, গ্রীন লং, গ্রীন ফলস এফ১, সামুরাই এফ১ ইত্যাদি। উল্লেখযোগ্য জাতগুলোর মধ্যে লাল বেণী ও কেগরনাটকী জাতের ফলন সবচেয়ে বেশি। তবে খেতে ভালো ঘৃতসুন্দরী। বীজ বোনার ৫০-৬০ দিনের মধ্যে বরবটি সংগ্রহ করা যায়। 




পুষ্টিগুণ 

প্রতি ১০০ গ্রাম বরবটিতে রয়েছে, জলীয় অংশ ৮৭.৫ গ্রাম ক্যালসিয়াম ৩৩ মিলিগ্রাম ও ভিটামিন বি-১ ০.১৪ মিলিগ্রাম।  খনিজ পদার্থ ০.৮ গ্রাম, ৫০ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি, আমিষ ৩ গ্রাম, আঁশ ৩.৮ গ্রাম, লৌহ ৫.৯ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি-২ ০.০৩ মিলিগ্রাম, ও শর্করা ৯  ইত্যাদি পাওয়া যায়। বরবটির জাত ও স্থানের পরিবর্তনের সঙ্গে পুষ্টিমানের পরিবর্তন হতে পারে। 

এছাড়াও বরবটিতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট,  অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, এন্টিভাইরাস, অ্যান্টেক্যান্সার প্রোপার্টিস। এতে আরো রয়েছে ভিটামিন বি১, ভিটামিন বি২, রিবোফ্লাভিন, ক্লোরোফিল, থায়ামিন, ফসফরাস, ফাইবার ও বিভিন্ন মিনারেল। 

পড়ুন- পুঁই শাকের স্বাস্থ্য উপকারিতা

আরো পড়ুন- ঢেঁড়স এর উপকারিতা


চর্বি কমায় 

বরবটি একটি অধিক আঁশ ও কম ক্যালরিযুক্ত সবজি। এটি দেহের চর্বি কমাতে সাহায্য করে। এটিতে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা শরীর থেকে দূষিত যৌগ গুলোকে বের করে দেয়। ফলে সহজে শরীরে চর্বি জমতে পারে না। 

 

ক্যান্সারের ঝুকি কমায়

বরবটিতে ফ্ল্যাভোনয়েড উপাদান ক্যাম্পফেরল ও কুয়ারসেটিন থাকে যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই দুই উপাদান ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধি রোধে বেশ কার্যকরি। 


হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি

হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করতে সিলিকন প্রয়োজন আর এই উপাদানটি রয়েছে বরবটিতে। বরবটির বীজে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত ও মজবুত করতেও বেশ উপকারী। নারীদের স্বাস্থ্য উপকারেও ক্যালসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 


হার্ট সুরক্ষা

বরবটিতে রয়েছে অধিক উপকারী আঁশ, যা শরীরের এলডিএল ক্ষতিকর কলেস্টেরলের পরিমান কমিয়ে দেয়।ফলে হার্ট সুরক্ষিত থাকে। এছাড়াও এটি উচ্চ রক্তচাপ, বুক জ্বালাপোড়া ইত্যাদি সমস্যা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।


অস্থিসন্ধির ব্যাথা কমায় 

বরবটিতে থাকা ভিটামিন কে, আপনার শরীরের ভিটামিন কে এর চাহিদা পূরণ করবে। এই ভিটামিন কে অস্টিওআর্থারাইটিস সমস্যা থেকে অস্থিসন্ধির যত্ন নেবে। আবার রক্ত জমাট বাধতে ভিটামিন কে উপকারী ভূমিকা রাখে। 

যারা চুল পড়া সমস্যায় ভুগছেন তারা নিয়মিত বরবটি গ্রহণ করতে পারেন, এতে উপকার পাবেন। কম ক্যালরি যুক্ত হওয়ায় বরবটি খেলে পেট ভরা থাকে। যার কারনে ক্ষুদাভাব অনেকটাই কমে যায় এবং ওজন হ্রাস ঘটে। 


আয়রনের ঘাটতি পূরণ

বরবটিতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন। যাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে তারা নিয়মিত বরবটি খেতে পারেন। তবেই আয়রনের ঘাটতি দ্রুত পূরণ হবে। এছাড়াও বরবটিতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আয়রন পরিশোষণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 


বরবটির ক্ষতিকর দিক অনেক কম, নেই বললেই চলে। তবে যাদের কিডনিতে ক্রিয়েটিনিনের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য বরবটির বীজ গ্রহণ না করাই ভাল। 

Friday, October 21, 2022

লাল শাকের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা। Health benefits of red spinach

 লাল শাকের উপকারিতা 




লাল শাক শীতকালের অন্যতম জনপ্রিয় একটি শাক লাল শাকেন ইংরেজি (Red spinach), বিজ্ঞানিক নাম (Amaranthus gangeticus) এর রঙ স্বদ অন্যান্য শাকের থেকে আলাদা, এটি শীতকালীন সবজি হলেও বর্তমান সারা বছরেই বাজারে কম বেশি পাওয়া যায়। লাল শাক খেতেও যেমন সুস্বাদু পুষ্টিগুণেও ভরপুর। দেহের সুস্থতা বজায় রাখার জন্য লালশাকের গুরুত্ব অনেক বেশি 


লাল শাক কেন খাবেন  

শরীর স্বাস্থ্য ভাল সতেজ রাখতে নিয়মিত লাল শাক খেতে পারেন। লাল শাকে সমস্ত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও চর্বি রয়েছে। লাল শাক যেভাবে রান্না করে খেতে পারেন, লাল শাক ভাজা এবং ছোট মাছ দিয়ে ঝোল ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞদের মতে বর্তমানে ৩০ বছর বয়সের পর থেকে মানুষের শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায় সেই সব সমস্যা দূর করতে লাল শাক বেশ উপকারি 


উপাদান

লাল শাকে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ছাড়াও পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, এবং আঁশ-জাতীয় উপাদান। 


পড়ুন- ঢেঁড়স এর উপকারিতা

আরো পড়ুন- কলমি শাকের স্বাস্থ্য উপকারিতা


পুষ্টিগুণ 

প্রতি ১০০ গ্রাম লাল শাকে রয়েছে (Red spinach nutrition facts 100g)

ভিটামিন সি ৪২.৯০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১ .১০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২ .১৩ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৭৪ মিলিগ্রাম, প্রোটিন ৫.৩৪ মিলিগ্রাম, শর্করা ৪.৯৬ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ১১.৯৪ মিলিগ্রাম, স্নেহ ০.১৪ মিলিগ্রাম, অন্যান্য খনিজ .০৬ মিলিগ্রাম, খাদ্য শক্তি ৪৩ কিলোক্যালরি 


ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ 

লাল শাকে প্রচুর পরিমান ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন কে রয়েছে। এটি দাঁতের সুস্থতা, হাড় গঠন, হাড়ের ক্ষয়পূরণ, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। অস্টিওপরসিস ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতিজনিত হাড়ের সমস্যা সমাধানে নিয়মিত লাল শাক খেতে পারেন। (Red spinach benefits) 


রোগ প্রতিরোধ 

লাল শাক যেভাবেই রান্না করে খান, এটি শরীরের  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি এর ঘাটতি পূরণ করে। যার কারনে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। 


মস্তিস্ক ভাল রাখে 

লাল শাক (Red spinach) মস্তিস্ক ও হৃদপিণ্ডকে শক্তিশালী (strong) করতে কার্যকরি ভূমিকা রাখে। 


হৃদরোগ প্রতিরোধ 

লাল শাক (Red spinach) রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এর বিটা ক্যারোটিন হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। এছাড়াও হৃদপিণ্ডকে শক্তিশালী করতেও লাল শাক বেশ উপকারি। 


মধুমেহ রোগে 

লাল শাকের পুষ্টিগুণ মধুমেহ রোগ বা ডায়াবেটিস (Diabetes) রোগিদের জন্য অনেক উপকারি। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রনে  রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 


ক্যান্সার প্রতিরোধ 

লালশাকে (Red spinach) থাকে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এতে য়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি। এই উপাদানগুল শরীরের একাধিক টক্সিন উপাদান দূর করে। তাতে ক্যান্সার কোষ জম্মানোর আশঙ্কা কম হয়। 


দৃষ্টিশক্তি 

লাল শাকে পর্যাপ্ত পরিমানে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ থাকে, যা দৃষ্টিশক্তির উন্নতি করে। লাল শাক গ্লুকোমার সমস্যায় বেশ উপকারি এবং অন্ধত্ব (blindness)রাতকানা রোগ দূর করতে সাহায্য করে। 


হজম শক্তি 

লাল শাকে থাকে পর্যাপ্ত পরিমান ফাইবার, এই ফাইবার হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। সেই সাথে গ্যাস- অম্বলের প্রকোপও হ্রাস (decrease) পায়। আবর স্বাভাবিকভাবেই বদ-হজমের আশঙ্কা কমে যায় এটি ডায়রিয়া ও রক্তক্ষরণও নিরাময়ে কাজ করে। 


কিডনি ভাল রাখতে 

লাল শাক রক্তে উপস্থিত একাধিক ক্ষতিকর উপাদান শরীর (body) থেকে বের করে দেয়। যার কারনে কিডনি পরিস্কার থাকে। কিডনির কাজকর্ম ভাল রাখতে এটি বেশ উপকারি। 


হার্ট ভাল রাখে 

লাল শাকে থাকে ফাইটোস্টেরল নামক একটি উপাদান, যা শরীরে প্রবেশ করার পর একদিকে যেমন ব্লাড প্রেসারকে (blood-pressure) নিয়ন্ত্রণ করে, তেমনি বিভিন্ন হার্টের রোগের অ্যান্টিডোট হিসেবেও কাজ করতে সাহায্য করে। প্রতি সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন নিয়মিত লাল শাক খেলে হার্টের সমস্যা কমে যায় এবং হার্টের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


চুল মজবুত (Hair Strong)

লাল শাক চুলের বৃদ্ধি তরান্বিত করে। চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। চুল পড়া কমে যায়। পাশাপাশি চুলে প্রয়োজনীয় খনিজ ও পুষ্টি যোগায় এবং চুলের গোড়া মজবুত করতেও সাহায্য করে লাল শাক। 


রক্তশূন্যতা 

শরীরে থাকা আয়রনের ৭০% ভাগ আছে রক্তের হিমোগ্লোবিন নামক উপাদানে আয়রন একটি শরীরে রক্ত প্রস্তত করার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। লাল শাক মানুষের শরীরে রক্ত উপাদানে ও রক্তের পরিমাণ বাড়াতে সহায়তা করে।

উপরের আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি জেনেছেন লাল শাকের বিভিন্ন উপকারিতা, যেমন- রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি, হজম শক্তি বৃদ্ধি, রক্তশূন্যতা পূরন, দৃষ্টি শক্তির উন্নতি, ক্যান্সার প্রতিরোধ,  মস্তিস্ক (Brain) ভাল রাখে ইত্যাদি। তবে যেকোন শাকসবজি অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয় প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিয়মিত লাল শাক খান সুস্থ থাকুন।