চাল কুমড়ার উপকারিতা
চাল কুমড়া একটি জনপ্রিয় সবজি। চাল কুমড়ার ইংরেজি নাম Wax gourd বা Ash gourd ও বৈজ্ঞানিক নাম Benincasa hispida। চাল কুমড়া ঘরের চালে ফলানো হয় বলে এটি চাল কুমড়া নামে পরিচিত। চাল কুমড়া এখোন মাচায় এবং জমিতেও চাষ করলে ফলন ভাল হয়।
উদ্ভিদতত্ত্বিক নাম Benincasa cerifera। চাল কুমড়া এক ধরনর কোমল কান্ডবিশিষ্ট বর্ষজীবী লতানো উদ্ভিদ পরিচিত একটি সবজি।
রান্নার ধরনঃ
চাল কুমড়া তরকারি হিসেবে খাওয়া ছাড়াও মোরব্বা, হালুয়া, পায়েশ ও কুমড়ো বড়ি তৈরি করে খেতে পারেন এবং এর কচি পাতা ও ডগা শাক হিসেবে খাওয়া যায়।
চাল কুমড়ার জাতঃ
বাংলায় সাদা কুমড়া, সাঁচি কুমড়া, চুণা কুমড়া, গিমি কুমড়া, ডিমি কুমড়া ইত্যাদি নামে পরিচিত হলেও বাংলাদেশে চাল কুমড়া বা জালি কুমড়া নামে জনপ্রিয়।
পুষ্টিগুণঃ
প্রতি ১০০ গ্রাম চাল কুমড়ার রয়েছে- খাদ্যশক্তি ১৩ কিলোক্যালরি, ভিটামিন সি ১০.১ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৫০ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১১ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৬ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ২ মিলিগ্রাম, কোলেস্টেরল ০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.২ মিলিগ্রাম, জিংক ০.৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৩, মিলিগ্রাম, আমিষ ০.৪ গ্রাম, শর্করা ৩ গ্রাম, ফাইবার ২.৯ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম।
চাল কুমড়া একটি পুষ্টিকর সবজি। এতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার ও শর্করা রয়েছে, তাই চাল কুমড়ার উপকারিতা অনেক। যক্ষ্মা, গ্যাস্ট্রিক, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ অনেক রোগের উপশম করে এই কুমড়া।
রোগ প্রতিরোধঃ
চাল কুমড়া এন্টি মাইক্রোবিয়াল এজেন্ট হিসেবে পেট এবং অন্ত্রের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সহায়তা করে ও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল ইনফেকশন বা আলসার রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম। এটি মসলাযুক্ত খাবার বা দীর্ঘদিনের জন্য উপবাসের কারণে পাকস্থলিতে তৈরি হওয়া এসিড দূর করতে সাহায্য করে।
যক্ষ্মা উপশমেঃ
নিয়মিত চাল কুমড়ার রস খেলে যক্ষ্মা রোগের উপসর্গ কেটে যায়। চাল কুমড়া রক্তপাত বন্ধ করতে সাহায্য করে, যাদের কাশের সঙ্গে রক্ত বের হয়, সে ক্ষেত্রে চাল কুমড়ার রস খেলে ভালো হয়ে যায়। এতে রক্ত বের হওয়া থেমে যায়। (Ash gourd juice benefits)
মস্তিস্কের নার্ভ ঠান্ডাঃ
আরো পড়ুন: পাট শাকের উপকারিতা
চাল কুমড়া মানসিক রোগীদের জন্য পথ্য হিসেবে কাজ করে, এটি ব্রেইন এর নার্ভ ঠান্ডা রাখে। এ জন্য চাল কুমড়াকে ব্রেইন ফুড বলা হয়। মানসিক রোগীর জন্য চাল কুমড়ার গুরুত্ব অপরিসীম। (Ash gourd benefits for brain)
ওজন ও মেদ কমায়ঃ
চাল কুমড়া শরীরের ওজন ও মেদ কমাতে বেশ উপকারী। রক্তনালীতে রক্ত চলাচল সহজতর করে। এটি অধিক ক্যালরিযুক্ত খাবার এর বিকল্প হিসেবেও খাওয়া যায়।
গ্যাস্ট্রিকঃ
চাল কুমড়ার বীজ গ্যাস্ট্রিক রোগের উপশম করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্ন্য, পেট ফাঁপা ও প্রসাবের সমস্যা কমাতে চাল কুমড়ার বিকল্প নেই গ্যাস্টিক
ত্বক ও চুলের যত্নঃ
মুখের ত্বক ও চুলের যত্নেও চাল কুমড়ার রস বেশ উপকারি। নিয়মিত চাল কুমড়ার রস ত্বক ও চুলে মাখলে চুল চকচকে এবং ত্বক সুন্দর হয়। বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করতেও চাল কুমড়া সহায়তা করে। (Ash gourd benefits for skin)



0 comments:
Post a Comment