করলার উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ
সবজির মধ্যে করলা অন্যতম। করলা ইংরেজি Balsam pear, alligator pear, bitter gourd, bitter melon, bitter cocumber ইত্যাদি নামে পরিচিত। করলায় প্রচুর পরিমাণে উপাদান থাকায় মানুষের শরীরে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
ত্বকের জন্য উপকারী
অ্যান্টঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি থাকার কারনে ত্বক হয় উজ্জল ও টানটান ফলে স্কিনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় আবার ভিটামিন এ, বায়োটিন ও জিঙ্ক মজুত থাকায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। ব্রণ রোধ করতে করলার পাউডার ত্বকে লাগাতে পারেন।
পুষ্টির পরিমাণ (Bittel gourd nutrition facts 100g)
প্রতি ১০০ গ্রাম করলায় রয়েছে, ভিটামিন সি ৫৫.৬ মিঃগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৪২ মিঃগ্রাম, লোহা ১ মিঃগ্রাম, পাইরিডক্সিন ০.৮০ মিঃগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৯৪ মিঃগ্রাম,ক্যালরি ৩৪, লিপিড ০.০২ গ্রাম, সোডিয়াম ১৩ মিঃগ্রাম, শর্করা ৭ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ১.৯০ গ্রাম, প্রোটিন ৩.৬০ গ্রাম, পটাশিয়াম ৬০২ মিঃগ্রাম। (Bittel gourd calories)
রোগ প্রোতিরোধ ক্ষমতা
করলা প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটা বৃদ্ধি পায়, ফলে নানাবিধ রোগের প্রকোপ নিমেষেই কমে যায়। করলায় বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকে, সেই সাথে ভাইরাস ও খারাপ ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।
আরো পড়ুনঃ লাউ এর উপকারিতা
প্রোটিনের পরিমাণ
করলা সবজির মধ্যে এটি অন্যতম, নিয়মিত করলা খেলে শরীরে প্রচুর পরিমাণে শক্তিযোগাতে সাহায্য করে, করলায় মাংসের চেয়ে 50 গুণ বেশি প্রোটিন থাকে।
ক্যান্সারে করলার উপকারিতা
মানুষের শরীরে ক্যান্সার একটি মারাত্মক রোগ। করলা এটিকে রক্ষা করতে কিছুটা সহায়তা করতে পারে। করলায় বেশ কিছু উপাদান শরীরে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার বিরুদ্ধে দারুণভাবে লড়াই করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে করলার নির্যাসে (৫০) শতাংশ ক্যান্সার কোষ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, করলা মূলের নির্যাসে ক্যান্সার প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য অন্যতম।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
২০১০ সালের একটি গবেষনায় "দ্য অ্যানালস অফ সৌদি মেডিসিন" প্রকাশিত, এই তথ্য অনুযায়ী রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, আবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
লিভারের উপকারিতা
তিতা করলা বেশি খেলে লিভারের প্রদাহ সৃষ্টি করে ও লিভারের এনজামকে উন্নতি করতে সহায়তা করে।
পাট শাকের বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন
করলার ক্ষতিকর দিক
২। গর্ভবতী মহিলাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত করলা না খাওয়াই ভাল কারন গর্ভের শিশুর কোন ত্রুটি দেখা দিতে পারে, খিচুনিতে আক্রান্ত হতে পারে, আবার গর্ভপাতের ঝুঁকি হতে পারে।
৩। অল্প বয়সীদের তিতা করলা সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন খাওয়াবেন তবে হালকা পরিমাণ খাওয়াই ভাল, বিপরীতে শরীর অসুস্থ্য হওয়ার আশম্কা থাকে।
উপরের আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি জেনেছেন করলার পুষ্টি গুন, রক্তচাপ, রোগপ্রতিরোধ, লিভারের উপকারিতা ইত্যাদি। তবে করলা খুব বেশি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, বিপরীতে অসুস্থ হতে পারেন। সঠিক নিয়মে করলা খেলে সুস্থ থাকা যায়।




খুব সুন্দর
ReplyDelete