Saturday, October 15, 2022

কলমি শাকের স্বাস্থ্য উপকারিতা। Water spinach benefits

 কলমি শাকের উপকারিতা 




কলমি শাক একটি আঁশজাতীয় খাবার। কলমি শাকের ইংরেজি নাম Water spinachl, river spinach, water morning glory, water convolvulus, chinese spinach, swamp cabbage এবং বৈজ্ঞানিক নাম (Ipomoea aquatica), অতি পরিচিত শাকের মধ্যে কলমি শাক অন্যতম। এ শাক দামে সস্তা ও সহজলভ্য, কলমি শাকে প্রচুর পরিমানে খাদ্যউপাদান রয়েছে। বিশেষজ্ঞ  মতে থানকুনি, কচু এবং পুঁইশাকের চেয়েও এ শাকের পুষ্টিগুণ বেশি। 


কলমি শাক গ্রীষ্ম থেকে শুরু করে বর্ষাকালের শেষ পর্যন্ত পুকুর, নদি, খাল-বিল, হাওর ও ডোবায় অযত্ন অবহেলায় আপনা-আপনি জম্মায়। বর্তমানে এই সবজি জমিতেও চাষ করে ভাল ফলন পাওয়া যায়। এই শাকের ব্যাপক চাহিদা বাড়ায় বাণিজ্যিক হারে এর চাষ হচ্ছে। 


কলমি শাক যেভাবে খেতে পারেন 

কলমি শাক এক প্রকারের অর্ধ-জলজ উষ্ণমন্ডলীয় লতা। এটা শাক হিসেবে খাওয়া হয়ে থাকে। মূলত ভাজি, ভর্তা এবং ঝোল রান্না করে ভাতের সঙ্গে খাওয়া হয় কলমি শাক। এছাড়াও এই শাক দিয়ে পাকোড়া, বড়া ইত্যাদি তৈরি করে খাওয়া হয়। 


কলমি শাকের বিভিন্ন উপকারিতা 




পুষ্টিগুণ 

প্রতি ১০০ গ্রাম কলমি শাকে রয়েছে

২৯ কিলো ক্যালরি, পটাশিয়াম ৩১২ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৭৩ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১১৩ মিলিগ্রাম, লৌহ ২.৫ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৫০ মিলিগ্রাম, খাদ্যআঁশ ২.১ গ্রাম, কার্বহাইড্রেটস ৫.৪ গ্রাম, প্রোটিন ৩ গ্রাম, জলীয় অংশ ৮৯.৭ গ্রাম। (Water spinach calories)


রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি করে 

কলমি শাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। যা দেহে  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। যাঁদের অনিদ্রার সমস্যা রয়েছে, তাঁরা প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কলমি শাক রাখতে পারেন।


দেহের হাড় এবং দাঁত মজবুত করে

কলমি শাকে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকায়, দেহের হাড় এবং দাঁত মজবুত করে। শিশুদের নিয়মিত কলমি শাক খাওয়াতে পারেন, এটি শিশুদের শরীরে জন্য বেশ উপকারী। 


পড়ুন- মূলা শাকের স্বাস্থ্য উপকারিতা

আরো পড়ুন- লাউ এর উপকারিতা


রক্তশূন্যতা দূর করে 

কলমি শাক রক্তশূন্যতা দূর করতে দারুন কার্যকরী। কারণ কলমি শাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ লৌহ থাকে যা প্রয়োজনীয় রক্তশূন্যতা ঠিক রাখে।


দৃষ্টিশক্তি

কলমি শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন। এই ক্যারোটিন শরীরের ভিটামিন এ উৎপন্ন করে। যা চোখের দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখে। 


হজম শক্তি 

কলমি শাক আঁশজাতীয়। এটি খাদ্য হজম, খাদ্য পরিপাক ও বিপাক ক্রিয়ায় সাহায্য করে। নিয়মিত কলমি শাক খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর হয়।


শারীরিক দুর্বলতা 

কলমি শাকে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যশক্তি থাকে। যা শারীরিক দুর্বলতা সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। এইসব রোগীদের দ্রুত সুস্থ করার জন্য কলমি শাক প্রয়োজনীয় খাবার হিসেবে খাওয়ানো হয় 

আরো পড়ুনঃ লাল শাকের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা


আমাশা উপশম 

কলমি শাকের পাতার রসের সাথে সামান্য আখের গুড় মিশিয়ে শরবত বানিয়ে খেলে আমাশয় রোগ ভালো হয়। আমাশা রোগ নিরাময়ে কলমি শাকের গুরুত্ব অপরিসীম। 


গর্ভাবস্তায় সমস্যা 




গর্ভাবস্তায় গর্ভবতি মায়েদের শরীরে হাতে-পায়ে পানি আসে, সেই সময় কলমি শাক বেশি করে রসুন দিয়ে ভেজে নিয়মিত খাওয়ালে পানি কমে যায়। তাছাড়াও মহিলাদের শরীরবৃতীয় সমস্যা দূর করে, ঋতুস্রাবের সমস্যা দূরীকরণে কলমি শাক বেশ উপকারি।


প্রত্যেকটি শাকের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ থাকে। অধিকাংশ শাকে ভিটামিন এ এবং লৌহ জাতীয় পদার্থ থাকে। তাই  প্রতিদিন যেকোন এক বেলায় খাবারের সঙ্গে শাকসবজি খেতে পারেন। এতে শরীরের গঠনগত দিক বেশ উন্নত হবে।



0 comments:

Post a Comment